উত্তরদাতা: মাওলানা ইলিয়াস প্যাটেল
যাচাই ও অনুমোদন: শায়খ ফারাজ রব্বানী
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬
মূল লেখা (ইংরেজি): https://seekersguidance.org/answers/hanafi-fiqh/what-are-my-obligations-if-work-makes-me-miss-jumua/
বাংলা অনুবাদ: আল-কুরআন একাডেমি
প্রশ্ন
আমি কানাডার অন্টারিওতে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করি, মঙ্গলবার থেকে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আমি শাফেয়ি ফিকহ অনুসরণ করি। কাজের মধ্যেই তাড়াতাড়ি যোহর ও আসর পড়ে নিই, আর মাগরিব, এশা ও ফজর বাসায় পড়ি, কারণ আমার কাজ দেরিতে শুরু হয়।
সময় ও যাতায়াতের কারণে জুমার জন্য মসজিদে পৌঁছাতে পারি না। বিভিন্ন শহরে সার্ভিস কলে যেতে নিয়োগকর্তার গাড়ি ব্যবহার করি। তাই আমার সবসময় জুমা ছুটে যায়।
উত্তর
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
জুমা ছাড়া আপনার বাকি সব নামাজ আপনি খুব সুন্দরভাবে সামলাচ্ছেন। জুমার জন্য আপনাকে শুধু ম্যানেজারের সাথে কথা বলে এক ঘণ্টার একটি ছোট বিরতি চেয়ে নিতে হবে, যাতে কাছের কোনো জামাতে পৌঁছাতে পারেন।
জামাতের সাথে জুমার নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুকিম মুসলিম পুরুষের উপর ব্যক্তিগত ফরজ, শুধু সামষ্টিক দায়িত্ব নয়। তাই সম্মানের সাথে কিন্তু দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করুন। এটা আপনার নামাজ রক্ষারই অংশ। স্পষ্টভাবে অনুরোধ করলে অনেক নিয়োগকর্তা তা মেনে নেন, হয় সেই এক ঘণ্টা পরে পুষিয়ে দেওয়ার শর্তে, অথবা শেষ উপায় হিসেবে সেই এক ঘণ্টার বেতন কেটে রেখে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।” [সূরা জুমুআ, ৬২:৯]
সাহাবি আবুল জা’দ আদ-দামরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।” [নাসায়ি]
জুমা প্রত্যেক বালেগ মুসলিম পুরুষের উপর ফরজ, যার জুমা থেকে কোনো ওজর নেই, যেমন অসুস্থ ব্যক্তি। [নববি, মিনহাজুত তালিবীন]
এর অর্থ, এটা ব্যক্তিগত ফরজ, শুধু সামষ্টিক দায়িত্ব নয়। যদি এটা শুধু সামষ্টিক দায়িত্ব হতো, তাহলে কয়েকজন গেলেই বাকি পুরুষদের যাওয়া জরুরি থাকত না।
কাজের জন্য সফর প্রসঙ্গে
সার্ভিস কলের কারণে আপনি যদি সত্যিই শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির হয়ে যান, তাহলে সেদিন আপনার উপর জুমা ফরজ নয়।
আর যদি নিজের শহরের ভেতরেই থাকেন, তাহলে জুমা ফরজই থাকবে। প্রতিটি শুক্রবার আলাদাভাবে বিবেচনা করুন এবং দিকনির্দেশনার জন্য স্থানীয় আলেমদের সাথে যোগাযোগ করুন।
আশা নিয়ে বিষয়টি ধরে রাখুন
অভ্যাসগতভাবে জুমা ছেড়ে দেওয়া গুরুতর বিষয়। তবে আপনি নিয়োগকর্তার কাছে অসম্ভব কিছু চাইছেন না, শুধু অনুরোধ করার চেষ্টাটুকু।
আল্লাহ সেই চেষ্টা দেখেন এবং ইনশাআল্লাহ আপনার জন্য সহজ করে দেবেন। নামাজের প্রতি আপনার যত্নের জন্য আল্লাহ আপনাকে প্রতিদান দিন এবং বিষয়টি সহজ করে দিন।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
মাওলানা ইলিয়াস প্যাটেল
যাচাই ও অনুমোদন: শায়খ ফারাজ রব্বানী
