উত্তরদাতা: শায়খ আব্দুর রহিম রেসাত
যাচাই ও অনুমোদন: শায়খ ফারাজ রব্বানী
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৩
মূল লেখা (ইংরেজি): https://seekersguidance.org/answers/prayer/can-we-combine-isha-and-maghrib-prayers-during-the-summer-months/
বাংলা অনুবাদ: আল-কুরআন একাডেমি
প্রশ্ন
যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে নামাজ একসাথে পড়া, বিশেষ করে এশা ও মাগরিব একসাথে পড়া কি বৈধ বা জায়েয? এশা শুরু হয় রাত ১১টায়, আর ফজর রাত ৩টায়। ব্যক্তিগতভাবে এশা, ঘুম আর কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখা আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়। আমি প্রায়ই ফজরের আগে উঠে নির্ধারিত সময়ে এশা, তারপর ফজর পড়ার চেষ্টা করি।
স্বীকার করছি, কখনো কখনো ঘুম ভাঙে না, তখন এশার কাযা পড়তে হয়। দিন যত বড় হবে, এশা তত দেরিতে আসবে। বছরের বেশিরভাগ সময় আমি রাত ১০টার দিকে ঘুমাই।
উত্তর
আশা করি আপনি ভালো আছেন।
না, হানাফি মাযহাবে মাগরিব ও এশা একসাথে পড়া বৈধ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এবং অতীতেও এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। হ্যাঁ, এটা সামলানো কঠিন হতে পারে, তবে বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই সম্ভব। [শুরুমবুলালি, মারাকিল ফালাহ]
নামাজের সময়
মূল সমস্যা হলো এশার সময় শুরু ও শেষ হওয়ার আলামত না থাকা, অর্থাৎ পশ্চিম আকাশের সাদা আভা মিলিয়ে যাওয়া ও আবার দেখা দেওয়া। তাই আলেমগণ হিসাব করে শুরু ও শেষের সময় নির্ধারণের পথ নিয়েছেন। তবে হিসাবের পদ্ধতিতে ভিন্নতা আছে।
আপনি সূর্যাস্তের এক ঘণ্টা পর এশা পড়তে পারেন, আর ফজরের জন্য শুরুর সময় হিসাবের যেকোনো একটি পদ্ধতি নিয়মিত মেনে চলুন।
ফজরের জন্য আগের কোনো সময় বেছে নিলে, যেমন “রাতের মধ্যভাগ” পদ্ধতি, রাত ১টার দিকে ফজর পড়া সম্ভব হয়। এটা খুবই উপকারী ও বাস্তবসম্মত একটি মত।
আপনি এশা পড়ে চাইলে একটু হালকা ঘুমিয়ে নিতে পারেন, তারপর ফজর পড়ে লম্বা সময় ঘুমিয়ে সকালে কাজের জন্য উঠতে পারেন। গ্রীষ্মের এই কয়েক মাস কাজ থেকে ফিরে একটু ঘুমিয়ে নিলে রুটিনটা সহজ হবে।
কষ্টের জন্য আল্লাহ প্রতিদান দেন
আল্লাহর কাছে সাহায্য চান এবং নিজের রুটিন এমনভাবে সাজানোর চেষ্টা করুন, যাতে সারা বছর সব নামাজ সময়মতো আদায় হয়। ফরজ আমল আদায় করা অনেক বড় ইবাদত। এটা এই আয়াত থেকে বোঝা যায়: “…আল্লাহর পথে তাদের যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি বা ক্ষুধা স্পর্শ করে… তার বিনিময়ে তাদের জন্য নেক আমল লেখা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [সূরা তাওবা, ৯:১২০]
আল্লাহ আপনার জন্য বিষয়টি সহজ করে দিন।
শায়খ আব্দুর রহিম
যাচাই ও অনুমোদন: শায়খ ফারাজ রব্বানী
