
নূরানী কায়দা হলো কুরআন শুদ্ধভাবে পড়ার ভিত্তি। সন্তান ক্লাসে আসলে কতটুকু শিখল, কোন ধাপে আটকে আছে, তা বোঝা অনেক অভিভাবকের জন্য কঠিন, বিশেষ করে যারা নিজেরা ছোটবেলায় ভিন্ন পদ্ধতিতে পড়েছেন। এই চেকলিস্টটি সেই কাজ সহজ করার জন্য। প্রতিটি ধাপের পাশে দেওয়া প্রশ্নগুলো দিয়ে আপনি ঘরে বসেই সন্তানের অগ্রগতি যাচাই করতে পারবেন। সব প্রশ্নের উত্তর “হ্যাঁ” হলে পরের ধাপে যাওয়া নিরাপদ।
মনে রাখবেন, কায়দার উদ্দেশ্য দ্রুত শেষ করা নয়, বরং প্রতিটি হরফ সঠিক মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করা। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “এবং কুরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে, স্পষ্টভাবে।” (সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত ৪)
ধাপ: হরফ পরিচয়
☐ আরবি ২৯টি হরফ ক্রমানুসারে এবং এলোমেলোভাবে দেখে চিনতে পারে।
☐ কাছাকাছি দেখতে হরফগুলো আলাদা করতে পারে, যেমন ب ت ث, ج ح خ, د ذ, ر ز, س ش, ص ض, ط ظ, ع غ।
☐ হরফের নাম বলতে পারে, আর আঙুল দিয়ে দেখালে সঠিক হরফটি খুঁজে দিতে পারে।
ধাপ: মাখরাজ ও উচ্চারণ
☐ কাছাকাছি উচ্চারণের হরফগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট করে বলে: ء ও ع, ه ও ح, ك ও ق, ت ও ط, س ও ص, ذ ও ز ও ظ।
☐ মোটা হরফগুলো (خ ص ض غ ط ق ظ) মোটা করে এবং বাকিগুলো পাতলা করে পড়ে।
☐ ث ও ذ উচ্চারণে জিহ্বার আগা দাঁতের সাথে লাগায়।
ধাপ: যুক্ত হরফ
☐ শব্দের শুরু, মাঝ আর শেষে হরফের রূপ বদলে গেলেও চিনতে পারে।
☐ যেসব হরফ পরের হরফের সাথে যুক্ত হয় না (ا د ذ ر ز و), সেগুলো আলাদা করে চিনতে পারে।
ধাপ: হরকত ও তানবীন
☐ যবর, যের, পেশ টেনে না পড়ে খাটো করে পড়ে।
☐ দুই যবর, দুই যের, দুই পেশ (তানবীন) এ নূনের আওয়াজ ঠিকভাবে দেয়।
☐ খাড়া যবর, খাড়া যের আর উল্টা পেশ দেখলে এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়ে।
ধাপ: জযম, তাশদীদ ও মদ
☐ জযমযুক্ত হরফকে আগের হরফের সাথে মিলিয়ে পড়ে।
☐ তাশদীদযুক্ত হরফে জোর দিয়ে দুইবার উচ্চারণের মতো করে পড়ে।
☐ হরফে মদ (ا و ي) চিনতে পারে এবং সঠিক পরিমাণে টানে।
☐ মদের চিহ্ন থাকলে লম্বা টান আর চিহ্ন না থাকলে স্বাভাবিক টানের পার্থক্য করে।
ধাপ: নূন সাকিন, তানবীন ও মীম সাকিনের নিয়ম
☐ ইযহার, ইদগাম, ইকলাব ও ইখফার জায়গাগুলো চিনে সঠিকভাবে পড়ে।
☐ নূন ও মীমের তাশদীদে গুন্নাহ করে।
☐ মীম সাকিনের পরে ب আসলে ইখফা আর م আসলে ইদগাম করে।
ধাপ: কলকলা, পুর ও বারীক, ওয়াকফ
☐ কলকলার হরফগুলো (ق ط ب ج د) সাকিন হলে প্রতিধ্বনির মতো করে পড়ে।
☐ আল্লাহ শব্দের লাম কোথায় মোটা আর কোথায় পাতলা হয়, তা জানে।
☐ র হরফ কখন মোটা আর কখন পাতলা পড়তে হয়, তার মূল নিয়মগুলো জানে।
☐ আয়াতের শেষে থামার সময় শেষ হরফ সাকিন করে পড়ে।
ধাপ: কুরআনে যাওয়ার প্রস্তুতি
☐ আমপারার ছোট সূরাগুলো দেখে দেখে থেমে না গিয়ে পড়তে পারে।
☐ নামাযে পড়ার সূরাগুলো শুদ্ধ উচ্চারণে মুখস্থ বলতে পারে।
☐ শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন যে সে নাযেরা শুরু করার জন্য প্রস্তুত।
অভিভাবক কীভাবে সাহায্য করবেন
প্রতিদিন ক্লাসের পর পাঁচ মিনিট সন্তানের পড়া শুনুন, ভুল ধরার চেয়ে উৎসাহ দেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিন। কোনো ধাপে সন্তান দুই তিন সপ্তাহের বেশি আটকে থাকলে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন, কারণ অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট হরফের উচ্চারণ ঠিক না হওয়ায় পুরো অগ্রগতি থেমে থাকে। মাসে একবার এই চেকলিস্ট মিলিয়ে দেখলে আপনি পরিষ্কার বুঝবেন, সন্তান কোথায় আছে।
শেষ কথা
নূরানী কায়দা ভালোভাবে শেষ হলে পুরো কুরআন পড়া অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই প্রতিটি ধাপ পুরোপুরি আয়ত্ত করার পরেই পরের ধাপে যাওয়া উচিত। আপনার সন্তান এখন কোন ধাপে আছে, তা যাচাই করতে চাইলে আমাদের শিক্ষকের সাথে ২টি ফ্রি ট্রায়াল ক্লাস নিতে পারেন, শিক্ষক ক্লাস শেষে আপনাকে একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন জানাবেন।
সূত্র: সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত ৪; নূরানী কায়দার প্রচলিত পাঠক্রম।
